চট্টগ্রামে টানা পাঁচ দিনের গ্যাস সংকট: চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী, ব্যাহত শিল্প উৎপাদন

মোঃ রুহুল আমিন চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান: টানা পাঁচ দিন ধরে চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট বিরাজ করছে। অধিকাংশ এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে বাসাবাড়িতে রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।নগরীর আগ্রাবাদ, হালিশহর, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন ও ষোলশহরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় গ্যাস থাকে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার বা বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।শুধু আবাসিক গ্রাহকই নন, গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানাগুলোও উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সিএনজি চালক গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে পরিবহন খাতেও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে দৈনিক প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (FSRU) টার্মিনালের কারিগরি সমস্যার কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকরা দ্রুত স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এ সংকট অব্যাহত থাকলে উৎপাদন, রপ্তানি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।এদিকে ভোগান্তিতে থাকা নগরবাসী দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কবে নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *