আবারও গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হত্যা নাকি আত্মহত্যা?
হাসান রেজা নিজস্ব প্রতিনিধি সাতক্ষীরাঃ সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলার কুখরালী মাঝেরপাড়া গ্রামে গতকাল ২২শে মে শুক্রবার সকাল ৮.৩০ মিনিটে মোঃ নজরুল ইসলাম এর বড় পূত্র সাকিব এর স্ত্রী সোহানার ঝুলন্ট মৃতদেহ পাওয়া যায়। গত ৬ থেকে ৭ বছর আগে পারিবারিক ভাবে দহাকুল গ্রামের মোঃ খলিলুর রহমানের মেয়ে সোহানার সাথে কুখরালী মাঝেরপাড়া গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলাম এর বড় পুত্র সাকিবের সাথে বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে কিছুদিন ভালই যাচ্ছিল কিন্তু একটি পুত্র সন্তান (ফায়াজ) হওয়ার পর থেকে পারিবারিক সমস্যা সৃষ্টি হয় এরই ধারাবাহিকতায় কয়েক দফা নিজেদের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে মিমাংশা হয়। তারপরও সমাধান জীবন দিয়ে শেষ হলো। সরজমীনে গিয়ে জানা যায় সাকিবের পরকিয়ার জের ধরে সংসারে অশান্তি ছিল। ভিকটিম সোহানার একমাত্র ভাই সজল এর কাছে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার বোন আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে না সকালে আমাদের ফোন দিয়ে ছেলের বাবা আসতে বলে এবং বলে বড় সমস্যা হয়েছে সোহান মারা গিয়েছে। আমরা এসে দেখি আমার বোনের পিঠে ক্ষতের চিহৃ এবং বোনের ছেলে শিশু ফায়াজকে জ্বিগাসা করি মার কি হয়েছে। ছোট শিশু ৩ বছরের বাচ্চা ফায়াজ বলে আব্বা মাকে মেরে দাদি ও আব্বা মিলে মাকে ঝুলিয়ে রেখেছে। ভিকটিমের খালা কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন ভিকটিম (সোহানা) বেশ কিছু দিন আগে তার কাছে গিয়েছিল এবং বলেছে সাকিবের সামরের একতলা বাড়ির মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে সে বিষয়ে কিছু বলতে গেলে গায়ে হাত দেয় মারধর করে । আমি তাকে তার পিতা মাতাকে জানাতে বললে সোহানা আমাকে বলে না তারা কষ্ট পাবে আবার অশান্তি হবে। ভিকটিমের স্বামী সাকিবকে জ্বিগাসা করতে তিনি জানান প্রতিদিনের মত তিনি তার স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে রাতে ঘুমিয়েছিলেন সকালে ছেলে তাকে ডাক দিলে তার ঘুম ভাঙ্গে এবং স্ত্রী সোহানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তখন তিনি চিৎকার করলে পাশে ঘরে থাকা তার মা ছোট ভাই সোহানাকে উঁচো করে ধরে এবং সাকিব ওরনা কেটে মৃতদেহ নিচে নামায়। পরে বিষটি জানতে পেরে আশে পাশের প্রতিবেশি উপস্থিত হয়। পুলিশকে সংবাদ দিলে ওসি কামরুজ্জামান এর একটি পুলিশ টিম ঘটনাস্থানে উপস্থিত হয় এবং মৃতদেহের পিঠির ক্ষত চিহৃ সহ ঘটনা স্থান পরিদর্শন করে এটা হত্যা সন্দেহ করে বলে লাষটাকে ময়নাতদন্তের জন্য ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তুত্তি গ্রহন করেন। সরজমীনে ঘটনাস্থানে গিয়ে দেখা যায় যেখানে মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল তার পাশ্বে একটি ফ্লিজ আছে এবং তার উপর ছোট বড় অনেক কিছু সাজানো রয়েছে যা এখন সেভাবে সাজানো রয়েছে। ভিকটিমের পরিবার দাবি করছে যদি সে আত্মহত্যাই করতো তবে সাজানো জিনিসপত্র এলোমেলো হতো এবং শব্দ হতো স্বামী একই ঘরে পাশ্বে থেকেও কিভাবে টের পেল না এটা আত্মহত্যা হতে পারে না। পুলিশ কর্মকর্তারা পরবর্তীতে লাসটাকে ময়তন্তের জন্য পাঠানো হয় এবং দুইপক্ষের সম্মতিতে লাশ দাফন করা হয়। কিন্তু কোন প্রকার কেস হয়নি বিষয়টি খুবই রহস্যজনক।

